কানাডার মনুষ্যবিহীন ড্রোন স্কোয়াড্রন অনিশ্চিত!
এইদেশ সংগ্রহ, বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ১০, ২০১৩


কানাডার সামরিক বাহিনী মনুষ্যবিহীন বা ড্রোন বিমান ব্যবস্থা গড়ে তুলতে একটি স্কোয়াড্রন প্রতিষ্ঠা করতে চাইলে ৩৫০ জনের বেশি সদস্য প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী স্টিফেন হার্পার ছয় বছর আগে কানাডার সামরিক ক্ষমতা বাড়াতে ড্রোন স্কোয়াড্রন প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করলেও, তা এখনো সরকার ও সামরিক বাহিনীর হিসাব-কিতাবের পর্যায়েই থমকে আছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিটার ম্যাককে জানিয়েছিলেন, নতুন একটি ড্রোন স্কোয়াড্রন গঠনের জন্য কানাডার ৩৬৯ সদস্যের প্রয়োজন পড়বে। আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছিল এক বিলিয়ন ডলার। ২০১০ সালে জয়েন্ট আনহেবিটেড সারভেইলেনস অ্যান্ড টার্গেট অ্যাকুইজেশন সিস্টেম (জেইউএসটিএএস) নামের এই প্রকল্পের বিস্তারিত প্রণয়ন করেছিলেন তৎকালীন মেজর জেনারেল টম লসন, যেখানে প্রস্তাবিত প্রকল্পের ক্রয়প্রক্রিয়ার হালনাগাদ তুলে ধরে দ্রত কার্যক্রম শুরুর আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু ওই আশাবদ এখনো কাগজ-কলম আর মৌখিকতাতেই সীমাবদ্ধ হয়ে আছে। খবর অটোয়া সিটিজেন।
আফগান রণাঙ্গনে কানাডার সামরিক বাহিনী বিভিন্ন ক্ষেত্রে অস্ত্রবিহীন ইউএভি বিমান ব্যবহার করেছে। কিন্তু দূরপাল্লার মনুষ্যবিহীন ড্রোন বিমানের একটি বহর নিয়ে স্কোয়াড্রন গঠনের ইচ্ছা অনেক দিনের। কিন্তু নানা জটিলতায় কানাডার সেই ইচ্ছা এখনো পূরণ হয়নি। নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্য পদের জন্য চেষ্টারত কানাডার মতো শক্তিশালী অর্থনীতির একটি দেশের ড্রোন স্কোয়াড্রন প্রতিষ্ঠার অনেক দিনের পরিকল্পনা এখনো আলোর মুখ দেখছে না, সে প্রশ্ন অনেক সামরিক পর্যবেক্ষকের। এ জন্য আমলাতান্ত্রিক জটিলতাকেই তাঁরা দুষছেন।
সূত্রে প্রকাশ, জাতীয় গণমাধ্যম সরকারি দলিলপত্রের যেটুকু হাতে পেয়েছে তাতে জানা গেছে, টম লসন চিফ অব দ্য ডিফেন্স স্টাফ পদে পদোন্নতি পাওয়ার পর জেইউএসটিএএস প্রকল্পটি আড়ালে চলে যায়। ইউএভি নামে পরিচিত ড্রোনের প্রথমটির কাজ শুরুর কথা ছিল ২০১০ সালের প্রথম দিকে। পরে ওই সময়সীমা পিছিয়ে ২০১২ সালে পুন:নির্ধারন করা হয়। কিন্তু দ্বিতীয় সময়সীমাও পিছিয়ে ২০১৭ সালে নির্ধারণ করা হয়েছে। শুরুতে সময়সীমা পিছিয়ে দেওয়ার কারণ হিসেবে সামরিক কর্মকর্তারা খুটিনাটি প্রক্রিয়ার কথা জানিয়েছিলেন। তবে এখন বিমান বাহিনী বলছে, মনুষ্যবিহীন বিমান চুক্তি কবে নাগাদ চূড়ান্ত করা সম্ভব হবে, কিংবা কবে ক্রয়প্রক্রিয়া সমাধা হবে, তা তারা জানে না। দীর্ঘ দিন আগে কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা দেওয়া হলেও জেইউএসটিএএস প্রকল্পের এই প্রাথমিক স্তরেই আটকে থাকার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে হার্পার প্রশাসন বা সামরিক বাহিনী সূত্রে পরিষ্কারভাবে কোনো ব্যাখ্যা প্রদান করা হচ্ছে না।
তবে রয়েল কানাডিয়ান এয়ার ফোর্সের (আরসিএসএফ) মেজর জেমস সিমিয়ানা গণমাধ্যমের কাছে পাঠানো এক ই-মেইল বার্তায় জানান, মনুষ্যচালিত এবং মনুষ্যবিহীন বিমান পরিচালনা কার্যক্রমে ভারসাম্য আনার লক্ষ্যে আরসিএসএফের গঠন-কাঠামো নতুন করে বিন্যস্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। এর ফলে কানাডার নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যুগোপযোগী হওয়ার ক্ষেত্রে এক ধাপ এগিয়ে যাবে।
স্মরণ করা যায়, প্রধানমন্ত্রী স্টিফেন হার্পার ২০০৬ সালে নির্বাচনী ইশতেহারে অঙ্গীকার করেছিলেন যে, কনজারভেটিভ সরকার ক্ষমতায় গেলে নিউফাউন্ডল্যান্ড অ্যান্ড ল্যাব্রাডোরের গুজ বে-তে ৬৫০ জন সৈন্য নিয়ে র্যাপিড রিঅ্যাকশন ইউনিট গঠন করা হবে। এর পাশাপাশি দূরপাল্লার ইউএভি গোয়েন্দা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে একটি বিমান স্কোয়াড্রনও প্রতিষ্ঠা করা হবে। কানাডার সমুদ্র উপকূল ও মেরু অঞ্চল এবং অন্য রাষ্ট্রে পরিচালিত সামরিক মিশনে নজরদারি চালাতে মনুষ্যবিহীন ড্রোন বিমান পরিচালনা করা হবে। এরই ধারাবাহিকতায় কনজারভেটিভ সরকার ক্ষমতায় এসে জেইউএসটিএএস প্রকল্প হাতে নিয়েছিল। কিন্তু ছয় বছর আগে ঘোষিত হার্পারের অঙ্গীকার এখনো বাস্তকে রূপ পায়নি; কবে হবে, তা-ও অনিশ্চিত।
জানা গেছে, কেন্দ্রীয় সরকার বেশ কয়েক মাস আগে বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম নিমার্তা প্রতিষ্ঠানের কাছে সহজলভ্য ড্রোনের বিস্তারিত জানতে চেয়েছিল। তখন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও আশা প্রকাশ করে জানিয়েছিল, ২০১৩ সালের যেকোনা সময় ড্রোনের ক্রয় অনুমোদন চূড়ান্ত হবে। কিন্তু বিমান বাহিনী সূত্রে প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, কানাডার প্রতিরক্ষা ব্যবস্খায় কবে নাগাদ অত্যাধুনিক ড্রোন সংযুক্ত হবে তার সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নেই। সামরিক পর্যবেক্ষকেরা মনে করছেন, অত্যাধুনিক এফ-৩২ যুদ্ধবিমান প্রকল্পের মতো কানাডার মনুষ্যবিহীন ইউএভি ড্রোন বিমান প্রকল্পও আরও অনেক দিন অনিশ্চয়তার মধ্যে আটকে থাকবে।

সূত্রঃ দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম