কানাডার অভিবাসী নীতিমালায় মে মাস থেকে বড় রকমের পরিবর্তন আসছে
এইদেশ-ডেস্ক , বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ১০, ২০১৩


কানাডা সরকার আগামী মে থেকে অভিবাসী নীতিমালায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে।
অন্যদিকে চলতি বছরে কানাডায় ৩ হাজার বিদেশী নির্মাণ শ্রমিক নেয়া হবে।
কানাডা সরকারের অভিবাসন, নাগরিকত্ব ও বহু সংস্কৃতিক বিষয়ক মন্ত্রী জেসন কেনি সম্প্রতি এক ঘোষণায় এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, নির্মাণ খাতের শ্রমিক সংকটের বিষয় চিন্তা করে ‘ফেডারেল স্কিলড ট্রেড প্রোগ্রাম (এফএসটিপি) ক্যাটাগরিতে কানাডায় অনুষ্ঠিতব্য ২০১৫ সালের প্যান-আমেরিকান ক্রীড়া মহোৎসবকে সামনে রেখে উত্তর অন্টরিও’র প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিপুলসংখ্যক নির্মাণ শ্রমিক আনা হবে। এ কাজের জন্য ৩ লাখ ২০ হাজার নতুন শ্রমিক প্রয়োজন হবে। তিনি বলেন, বিদেশীদের দিয়ে এই চাহিদা পূরণ করা হবে। এ ক্ষেত্রে স্কিলড ওয়ার্কার প্রোগ্রামের মতো পয়েন্ট পদ্ধতি লাগবে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।


মেকানিক্যাল, ইলেকট্রিক্যাল ও নির্মাণ শিল্পে অভিজ্ঞ শ্রমিকদের কানাডিয়ান নিয়োগ কর্তারা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেবেন। নির্মাণ কাজে দক্ষ ও ইংরেজীতে কথা বলতে জানা এসব শ্রমিকদের সুনির্দিষ্ট ওয়েবসাইট দেখে আবেদন করতে বলা হয়েছে। তবে এ ক্যাটাগরিতে কৃষিশ্রমিক, বাবুর্চি ও পেশাজীবীরা আবেদন করতে পারবেন।
অভিবাসন, নাগরিকত্ব ও বহু সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী জেসন কেনি ঘোষণায় বলেন, অর্থনীতিকে আরো মজবুত করার লক্ষ্যে কানাডা সরকার ২০১৩ সালে ২ লাখ ৪০ হাজার থেকে ২ লাখ ৬৫ হাজার বিদেশী নাগরিককে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ দেবার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। যা ২০০৭ সালে প্রণীত লক্ষ্যমাত্রার সমান।
তিনি জানান, কেন্দ্রীয় সরকার ২০১৩ সালে ‘এক্সপেরিয়েন্স ক্লাস ক্যাটাগরিতে’ ১০ হাজার বিদেশী নাগরিককে কানাডায় স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি দেবে। ২০১২ সালে যা ছিল ৭ হাজার ও ২০০৯ সালে ছিল ২ হাজার ৫শ’। ২০০৮ সালে এ ক্যাটাগরি চালুর পর কানাডায় স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পাওয়াদের বেশিরভাগ হ্েচ্ছন ভারত, চীন, ফিলিপাইনের। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রতিবছর প্রায় ১ লাখ শিক্ষার্থী ও ২ লাখ শ্রমিক কানাডায় আসছে।
অন্যদিকে কানাডায় বসবাসরত নাগরিক ও স্থায়ী বাসিন্দাদের মা-বাবা, দাদা-দাদী, নানা-নানীর জন্য ৫০ হাজার ভিসা ইস্যু করা হবে। এরমধ্যে স্পন্সরশীপ ও সুপার ভিসা কর্মসুচির আওতায় চলতিবছরে ২৫ হাজার দীর্ঘমেয়াদে বসবাসের জন্য ভিসা ইস্যু করা হবে। ২০১৪ সালেও সমানসংখ্যক ভিসা ইস্যু করা হবে বলে তিনি জানান।
কানাডায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিদেশি শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা করার অনুমোদন দেয়ার ক্ষেত্রে কঠিন নিয়ম চালু করা হচ্ছে। বর্তমান নীতিমালায় আনা হচ্ছে পরিবর্তন।


এদিকে কানাডার কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে বর্তমানে বছরে ৬ হাজার ১৮৬ ডলার ব্যয় হয়। আগামী ৪ বছরে এই ব্যয় ৭ হাজার ৩৩০ ডলারে পৌঁছাবে। কানাডা সেন্টার ফর পলিসি অল্টারনেটিভের এক সমীক্ষায় সম্প্রতি এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। এতে আরও বলা হয় অন্টারিও এবং আলবার্টা প্রদেশের শিক্ষাব্যয় সর্বোচ্চ। এছাড়া কমানো হচ্ছে শিক্ষাখাতে প্রাদেশিক সরকারের শিক্ষা তহবিল। ফলে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তানদের উচ্চশিক্ষা ক্রমশ কঠিন হচ্ছে।

শরণার্থীদের জন্য নতুন নিয়ম

ডেজিগনেটেড কান্ট্রিজ অব অরিজিনের আওতাভুক্ত দেশসমূহের শরণার্থী হিসেবে করা আবেদনের শুনানি ৩০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে। যা আগে লাগতো ৬০০ দিন। এক্ষেত্রে শরণার্থীর কানাডা প্রবেশের স্থল বিবেচনা করা হবে। কী পরিস্থিতিতে একজন শরণার্থী কানাডা এসেছে তা কাঠারভাবে খতিয়ে দেখবে শরণার্থী বোর্ড। ভূয়া কোন ঘোষণা প্রদানকারিকে দ্রুত কানাডা থেকে বহিষ্কার করা হবে।


কানাডা সরকারের নতুন অভিবাসন নীতিমালা সম্পর্কে অবহিত হবার পর বাংলাদেশ সরকারের প্রবাসীকল্যাণ, কর্মসংস্থান ও জনশক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. জাফর আহমেদ খান এ প্রতিবেদককে বলেন, কানাডার মত উন্নত দেশের নতুন অভিবাসন নীতিমালা অনুযায়ী বিশাল কাজের দ্বার খুলে যাবে। এ বিষয়ে কানাডা সরকারের প্রস্তাব পেলে বাংলাদেশ সরকার ঢাকাস্থ কানাডা দূতাবাস ও অটোয়ার বাংলাদেশ দূতাবাসে দ্রুত যোগাযোগের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
সূত্রঃ বিভিন্ন গণমাধ্যম।