নারীর প্রতি অবমাননা, নিয়াজী এবং কিছু এদেশীয় কুলাঙ্গার
এইদেশ সংগ্রহ , বুধবার, ডিসেম্বর ২৬, ২০১২


মুক্তিযুদ্ধের গল্প শোন [A Page totally based on liberation war'71]
মুক্তিযুদ্ধের সময়কালে পূর্ব-পাকিস্তান তথা বর্তমান বাংলাদেশে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর অধিনায়ক ছিলেন জেনারেল আমির আবদুল্লাহ খান নিয়াজী। মূলত এই নরপশুর নেতৃত্বে রাওফরমান, রহিম খান ইত্যাদি পাকিস্তানী জেনারেল এদেশের উপর চালায় শতাব্দীর ঘৃণ্যতম একটি গণহত্যা। সেই সাথে এসব বিকৃত রুচির জেনারেলদের পরিকল্পনায় সংঘটিত হয় এদেশে ধর্ষণের মহোৎসব।

ফলশ্রুতিতে যুদ্ধপরবর্তী সময়ে এদেশে নির্যাতিত নারীদের সংখ্যা দাঁড়ায় দু'থেকে চার লাখ। আর এই কাজে বর্বর পাকিস্তানী বাহিনীকে সহায়তা করে এদেশীয় কিছু কুলাঙ্গার গোলাম আযম, নিজামী, মুজাহিদী, যারা শান্তিকমিটি, রাজাকারবাহিনী, আল-বদর প্রভৃতি বাহিনী গঠনের মাধ্যমে এদেশের মা-বোনদের তুলে পাঠাতো পাকিস্তানী সেনাদের কাছে যার প্রমাণ রয়েছে ছবির চিঠিতেই। যেখানে এক রাজাকার আরেক রাজাকারকে নির্দেশ দিচ্ছে পাকিস্তানী অফিসারদের জন্য প্রতিদিন একটি নারী তুলে আনতে।

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার আবদুল রহমান সিদ্দিকী তার East Pakistan The EndGame বইতে লেখেন, "নিয়াজী জওয়ানদের অসৈনিকসুলভ, অনৈতিক এবং কামাশক্তিমূলক কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত করতেন। 'গত রাতে তোমার অর্জন কি শেরা (বাঘ)?' চোখে শয়তানের দীপ্তি নিয়ে জিজ্ঞেস করতেন তিনি। অর্জন বলতে তিনি ধর্ষণকে বুঝাতেন।

সেপ্টেম্বরে পূর্ব পাকিস্তানের সকল ডিভিশান কমান্ডারের কনফারেন্সে এক অফিসার তুলেছিলেন পাকিস্তানী সেনা কর্তৃক বাঙ্গালী নারীদের ধর্ষনের প্রসঙ্গ । নিয়াজী তখন সেই অফিসারকে বলেন, "আমরা যুদ্ধের মধ্যে আছি। যুদ্ধক্ষেত্রে এই ধরনের ঘটনাকে স্বাভাবিক বলে ধরে নিও।" তারপর তিনি হেসে বলেন, "ভালই তো এসব বাঙ্গালী রক্তে পাঞ্জাবী রক্ত মিশিয়ে তাদের জাত উন্নত করে দাও।"

আর এই ধর্ষণের পক্ষে তিনি যুক্তি দিয়ে বলতেন, "আপনারা কি ভাবে আশা করেন একজন সৈন্য থাকবে,যুদ্ধ করবে, মারা যাবে পূর্ব পাকিস্তানে এবং যৌন ক্ষুধা মেঠাতে যাবে ঝিলমে?"

অতি সম্প্রতি পাকিস্তানী জেনারেল খাদিম হুসাইন রাজা "অ্যা স্ট্রেঞ্জার ইন মাই ওন কান্ট্" বইতে লিখেছেন নিয়াজী ধর্ষণে তার সেনাদের এতই চাপ দিতেন যে তা সামলে উঠতে না পেরে এক বাঙালি সেনা অফিসার নিজে আত্মহত্যা করতে বসেন।

কী ধরনের বর্বর এবং পশু হলে এধরণের কাজ করতে পারে একটি মানুষ?

এখন বলুন আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের এই দীর্ঘ নয় মাস যারা নিয়মিত নিয়াজীর মত যৌন-বিকৃত পাকিস্তানী সেনাদের কাছে নিজ মা-বোনদের ধর্ষণের জন্য হাসিমুখে তুলে দিয়েছিল সেই সব যুদ্ধাপরাধী রাজাকার গোলাম আযম,নিজামী, মুজাহিদী, সাঈদীদের বিচারে ফাঁসী হওয়া কি উচিত নয়?